দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের পণ্য কম শুল্কে ঢোকাতে ৪০টির বেশি দেশকে ব্যবহার করা হয়েছে। কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এসব দেশের মাধ্যমে চীন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়িয়ে গেছে বলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি শুল্ক আরোপ করা দেশগুলো থেকে কম শুল্কের দেশের মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য স্থানান্তর করা হয়েছে। পণ্য তৃতীয় কোনো দেশের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে পাঠানোর এই প্রক্রিয়াকে ট্রান্সশিপমেন্ট বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন তৃতীয় দেশকে পণ্য পাঠানোর মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং প্রকৃত উৎপত্তি গোপন করতে পণ্য নতুন করে প্যাকেটজাত করেছে। এর মাধ্যমে কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য প্রবেশ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হোয়াইট হাউস।
প্রতিবেদনে এই ব্যবস্থাকে কাগজপত্রের আড়ালে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চীনের শুল্ক ফাঁকি এখন আগের তুলনায় আরও দ্রুত, বিস্তৃত ও জটিল বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রান্সশিপমেন্ট শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না। চীন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ব্যবস্থা এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের বিরোধিতা করে। তৃতীয় কোনো দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন একতরফা পদক্ষেপ বা চুক্তিরও বিরোধিতা করেছে বেইজিং।
হোয়াইট হাউসের এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশ হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। ফলে চীনের বিরুদ্ধে নতুন এই অভিযোগ দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্ত করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক চ্যাং পাও লি বলেন, চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রেখেছে—এমন যুক্তি তুলে ধরে ওয়াশিংটন ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তিতে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
তবে চীনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত সরবরাহব্যবস্থার দেশগুলো এ ধরনের নীতির কারণে অতিরিক্ত ঝুঁকি ও ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
২০২৫ সালের মে মাসে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অধিকাংশ শুল্কে সাময়িক বিরতি দিলেও দুই দেশের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের পাল্টাপাল্টি এখনও চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের শুল্ক ফাঁকি ঠেকানো এখন তাদের বাণিজ্যনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/